English

আজ ১৩ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে মে ২০২০ ইং

২রা শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

সময় : রাত ১২:২৬

বার : বুধবার

ঋতু : গ্রীষ্মকাল

PEA988 111 copy 1 1
কুলির সর্দার রবিউলের উত্থান যেভাবে

কুলির সর্দার রবিউলের উত্থান যেভাবে

সুমন রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীতে তেল চুরির মূল হোতা রবিউল সরদার প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও আটক হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার দুপুরের দিকে তাকে কোট স্টেশন হড়গ্রাম বাজার এলাকায় দেখা যায়। 
অভিযোগ উঠেছে গত অনুমানিক ৮০ দশকে নড়াইল থেকে জিবিকার তাগিদে রাজশাহী আসেন রবিউল সরদার। এরপর তিনি বিভিন্ন জায়গায় কুলিগীরি করতেন। পাশাপাশি রাজশাহী কোর্ট স্টেশনে ড্রামে করে কেরসিন তেল বেচতেন রবিউল। পরে তিনি তার দক্ষতা ও বুদ্ধিতে লেবার সরদার হিসেবে লেবার পরিচালনা করতেন। যমুনা ওয়েল কম্পানী লিমিটেডের ডিপো ইনচার্জ আমজাদ হোসেন, সহকারী ইনচার্জ আসপাকুল, তার ছোট ভাই মোমিন ও আরিফ এরা তিন ভাই মূলত রেলওয়ের ডিপোতে অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকুরি করেন। অভিযোগ রয়েছে, আসপাকুলসহ তিন ভাই পদ্মা ও যমুনা ওয়েল কোম্পানীসহ রেলওয়ের ইলেক্টিক বিভাগের বরাদ্দকৃত তেল পাচারের সাথে জড়িত। আর এদের সাথেই গভির সক্ষতা গড়ে উঠে রবিউল সরদারের। শুরু হয় অল্প অল্প করে স্বল্প মূল্যে রেলওয়ের তেল ক্রয়। আর চুরির তেলের লাইন পেয়ে তিনি যেন কাল্পনিক আলাউদ্দিনের চেরাগ পেয়ে যান। আর এই চেরাগ পাওয়ার পর থেকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ৭ থেকে ৮ বছরের ব্যবধানে শত শত কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নেন রবিউল সরদার।
অপর দিকে, রাজশাহী জেলা ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপ এর সভাপতি হওয়ায় ট্রাক মালিকদের কল্যানের নামে চাঁদাবাজি করেন এই রবিউল সরদার।
রাজশাহীতে রয়েছে তার ১৮ টি ট্রাক, ১২টি ট্রাঙ্ক লরি, তিনটি তেলের ডিপো। 
 এছাড়া নড়াইলে আছে তার দুটি পেট্রোল পাম্পসহ নামে বেনামে বিপুল অর্থসম্পদ। তেল পাচারের সুবিধার্তে করেছেন চারটি লাইসেন্স। স্ত্রীর নামে তামান্না এন্টারপ্রাইজ, ম্যানেজারের নামে রিপন এন্টারপ্রাইজ, ছেলের নামে তানভীর এন্টার প্রাইজ, নিজের নামে সরদার পেট্রোলিয়াম এজেন্সি। এছাড়াও বিএডিসি ও বিসিআইসি’তে রয়েছে নিজের নামে ও ম্যানেজারের নামে ডিলারশিপ। নির্ভর যোগ্য সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে একাধিক ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করে থাকে রবিউল সরদার। এর মধ্যে, জনতা ব্যংক, পূবালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক ও কোট শাখা সোনালী ব্যাংকে একাউন্ট রয়েছে তার। সূত্রটি আরো জানায়, অর্ধশতাধিক সারের ডিলারদের কাছে দাদন হিসেবে দিয়ে রেখেছেন অনুমানিক আড়াই থেকে তিন কোটি টাকা। খোজ নিয়ে জানা গেছে, রবিউল সর্দারের বড় ভাই আমির হোসেন তৎকালীন বিস্ফোক আধিদফতরের পরিদর্শক ছিলেন, সে সময় তাকে দুর্নীতির অভিযোগে চাকরীচুত করা হয়। পরে দুর্নীতি মামলায় জেল খাটার পর কোর্ট অঞ্চলে শুরু করেন কেরসিন তেলের ব্যাবসা। আর সেখানেই কুলি হিসেবে কাজ করতেন রবিউল ইসলাম সর্দার।    
এর অগে রাজশাহীতে বাফার গোডাউনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম আকতারকে হাত করে সরকারের বরাদ্দকৃত কৃষকের সার নিয়ে করেছেন বাণিজ্য। জানা গেছে, গত বছরের জানুয়ারী থেকে মার্চ পর্যন্ত রাজশাহী গুডাম থেকে ১১ হাজার টন উন্নতমানের কাফকো সার সরবরাহ করা হয়। বাংলাদেশ ফর্টিলাইজার এসোসিয়েশন’র (বিএফএ) সাধারণ সম্পাদক রবিউল এবং তার ম্যানেজার রিপন ওই সারগুলো গ্রহণ করেন। অর্ধশতাধীক ডিলারের সাক্ষর জাল করে ওই সারগুলো উত্তোলন করা হয়। কিন্তু ডিলাররা পেয়েছিলেন মাত্র ২৫০০ টন। বাকি সার অধিকাংশই পাচার করা হয়। গত জানুয়ারী থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত রাজশাহী বাফার গুদামের গেটপাশ, চালান বই ও রেজিস্টার প্রতিবেদন খতিয়ে দেখা এবং পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ডিলারদের সঙ্গে কথা বল্লেই শামীমসহ গোটা সিন্ডিকেটের অপকমের্র তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।  

ওই ঘটনায় দুদকে তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে। এছাড়া সেসময় শামীম আকতারকে শাস্তিমূলক হিসেবে সেকেন্ড ম্যানেজার পদে বদলি করা হয় জয়পুরহাটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর